Skip to content

কৃষি ব্যাংক লোন নেওয়ার সহজ উপায়

    কৃষি ব্যাংক লোন এর রয়েছে কয়েকটি প্রকারভেদ যার মধ্যে রয়েছে শস্য ঋণ সহ আরও অনেক ধরনের ঋণ নেওয়ার সুযোগ। কিভাবে কৃষি ব্যাংক লোন নিবেন এবং কি কি যোগ্যতা আপনার মধ্যে থাকা লাগবে ঋণ নেওয়ার জন্য তার সবকিছু নিয়েই বিস্তারিত লিখব এখানে। 

    আরও পড়ুনঃ সহজ কিস্তিতে লোন নিন

    কৃষি ব্যাংক লোন আবেদনকারীর যোগ্যতা | Krishi Bank Loan

    কৃষি ব্যাংক লোন নেওয়ার সহজ উপায় | Krishi Bank Loan | BKB BD

    অন্যান্য ব্যাংক এবং এনজিওর মত কৃষি ব্যাংক লোন নিতে হলেও দরকার হবে যোগ্যতার আপনার যোগ্যতার উপর নিরবর করে আপনি কৃষি ব্যাংক লোন পাবেন কি না। 

    আরও পড়ুনঃ সোনালী ব্যাংক লোন পাওয়ার সহজ উপায়

    ঋণ আবেদনকারীর যোগ্যতাঃ 

    • কৃষি ব্যাংকে ঋণের আবেদন করতে অবশ্যই আপনাকে প্রাপ্ত পয়স্ক হতে হবে। 
    • ঋণ আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। 
    • আপনি যদি কৃষকহন তাহলে কৃষি ঋণ পাওয়ার জন্য যোগ্য বলা বিবেচনা করা হবে। 
    • আপনি যদি কৃষি ব্যাংক লোন এর আগে কখনো নিয়ে থাকেন এবং সেটার কিস্তি গুলো ঠিক সময়ে পরিশোদ না করে থাকেন তাহলে আপনাকে আর কখনো কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ দেওয়া হবেনা। 
    • আপনি যেই কারণে বা কাজে ঋণ নিবেন সেই কাজ করার সঠিক যোগ্যতা আপনার থাকতে হবে, যেমনঃ আপনি যদি একটি গরুর কামার দেওয়ার জন্য লোন নিতে চান তাহলে এই বিষয়টির উপর আপনার সবকিছু জানা থাকতে হবে (প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত হলে খুবি ভালো)
    • আপনি দেউলিয়া হলে কৃষি ব্যাংক আপনাকে কখনো ঋণ প্রধান করবেনা। 
    • আপনি যদি যেকোন ধরনের মানসিক রুগী হোন তাহলে আপনাকে ঋণ প্রধান করা হবেনা। 
    • এসএমই ঋণ অর্থাৎ ক্ষুদ্র ও মাজারি এন্টারপ্রাইজ খ্যাঁতে নিয়োজিত আছেন এমন উদ্যোক্তাগন সহজেই এসএমই ঋণ নিতে পারবেন এবং ঋণ পাবেন বলে যোগ্য বিবেচনা করা হবে। 

    এই সকল যোগ্যতা থাকলে আপনি কৃষি ব্যাংক এর যেকোন লোন নিতে পারবেন। তবে উপযুক্ত ডকুমেন্টও সাবমিট করতে হবে। 

    কৃষি ব্যাংক লোন প্রকারভেদ ও খ্যাঁত | BKB BD

    কৃষি ব্যাংক লোন নেওয়ার সহজ উপায় | Krishi Bank Loan | BKB BD

    কৃষি ব্যাংক লোনের অনেক গুলো প্রকারভেদ রয়েছে এবং তারা অনেক গুলো খ্যাঁতেও ঋণ দিয়ে থাকে, 

    কৃষি ব্যাংক লোন এর প্রকারভেদ কি কি এবং সেগুলোর মধ্যে কি কি খ্যাঁতে ঋণ দেওয়া হয় জানুন।

    আরও পড়ুনঃ অনলাইন মোবাইল লোন বাংলাদেশ

    কৃষি ব্যাংক লোন এর প্রকারভেদঃ

    • স্বল্প মেয়াদী ঋণ
    • মধ্যম মেয়াদী ঋণ
    • দীর্ঘ মেয়াদী ঋণ
    • অন্যান্য ঋণ
    • বৈদেশিক বাণিজ্য সম্পর্কিত ঋণ

    কৃষি ব্যাংক লোন এর এই পাঁচটি প্রকারভেদ রয়েছে এবং এই গুলোর মাধ্যমে তারা লোনের খ্যাঁত গুলোকে বিবক্ত করেছে।

    চলোন এখন জেনে নেওয়া যাক এই প্রকারভেদ গুলোর মধ্যে কি কি খ্যাঁত রয়েছে, তবে আমরা এখানে শুধু মেয়াদী ঋণ নিয়ে লিখব। অন্যান্য ঋণ এবং বৈদেশিক বাণিজ্য সম্পর্কিত ঋণ নিয়ে এখানে লিখা হবেনা। 

    স্বল্প মেয়াদী ঋণ

    স্বল্প মেয়াদী ঋণের মধ্যে রয়েছেঃ 

    • শস্য ঋণ
    • চা উৎপাদন ঋণ
    • নগদ মূলধন ঋণ/চলতি মূলধন ঋণ

    শস্য ঋণের খ্যাঁত গুলো হলোঃ রোপা আমন, বোরো, গম, আলু, আখ, সরিষা/বাদাম, ডাল/শীত কালীন শাকসবজি, আউশ/বোনা আমন, পাট, ভুট্টা, তিল/গ্রীষ্মকালীন শাক সবজী, তুলা, আদা/কচু, মৎস্যচাষ, চিংড়ি চাষ, একুয়াকালচার, রেণু উৎপাদন, লবণ চাষ, কলাচাষ ও বিবিধ, শস্যগুদাম ও বাজারজাতকরণ। 

    চা উৎপাদন ঋণঃ আপনি যদি চা উৎপাদন করতে চান তাহলে স্বল্প মেয়াদী ঋণের মধ্যে থাকা চা উৎপাদন ঋণ খ্যাঁতের জন্য লোন চেয়ে আবেদন করবেন। 

    নগদ মূলধন ঋণ/চলতি মূলধন ঋণঃ মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কৃষি পণ্যের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষি পণ্যের বিপণন, সার ও কীটনাশক ঔষধের ডিলার, রপ্তানী ঋণ, মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, আলু সংরক্ষণ, অন্যান্য (এসএমই খাত সহ)

    মধ্যম মেয়াদী ঋণ

    মধ্যম মেয়াদী ঋণ এই সকল খ্যাঁতে প্রধান করা হয়, যেমনঃ 

    • গাভী পালন/হাঁস-মুরগী পালন/ছাগল পালন/গরু মোটাতাজাকরণ/হাঁসের খামার,
    • আর্থ-সামাজিক কার্যাবল-আইফাদ আর, এফ, পি/স্বনির্ভর ঋণ কর্মসূচী,
    • কৃষি যন্ত্রপাতি/খামার যন্ত্রপাতি,
    • পুকুরে মৎস্য চাষ,
    • স্বনির্ভর ঋণ কর্মসূচী/শিক্ষিত বেকার যুবক উন্নয়ন কর্মসূচী,
    • হালের বলদ/গ্রামীন যানবাহন,
    • ফল ও অন্যান্য অর্থকরী ফসলের বাগান/পানবরজ/মিশ্র খামার,
    • রেশম চাষ,
    • সেচ যন্ত্রপাতি,\
    • কুটির শিল্প/তাঁত শিল্প/পল্লী বিদ্যুতায়ন,
    • চিংড়ি চাষ (প্রকল্প আকারে),
    • সামুদ্রিক মৎস্য চাষ,

    দীর্ঘ মেয়াদী ঋণ

    দীর্ঘ মেয়াদী ঋণ এই সকল খ্যাঁতে প্রধান করা হয়, যেমনঃ 

    • মৎস্য খামার
    • হাঁস-মুরগী পালন/খামার
    • ফলের বাগান
    • গবাদী পশুর খামার
    • দুগ্ধ খামার
    • ছোট আকারের কৃষি যন্ত্রপাতি উৎপাদন
    • প্রকল্প ঋণ
    • রাবার চাষ
    • চা বাগান উন্নয়ন

    কৃষি ব্যাংক লোন নিতে প্রয়োজনীয় কাজগপত্র

    কৃষি ব্যাংক লোন নেওয়ার সহজ উপায় | Krishi Bank Loan | BKB BD

    প্রয়োজনিয় কাগজপত্র গুলো দুটি বাগে বাগ করা হয়েছে, যেমনঃ 

    শুধু মাত্র শস্য ঋণের জন্য একধরনের কাগজপত্র দরকার হবে, এবং অন্যান্য সকল মেয়াদী ঋণের ক্ষেত্রে অন্য ধরনের কাগজপত্র দরকার হবে। 

    শস্য ঋণের জন্য প্রয়োজনিয় কাগজপত্র

    • শস্য ঋণ নেওয়ার জন্য প্রথমেই দরকার আবেদনকারীর ভোটার আইডি কার্ড। 
    • আবেদনকারীর দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের নতুন তুলা ছবি। 
    • নাগরিক সনদপত্র বা চেয়ারম্যান সার্টিফিকেট। 
    • শস্য ঋণের জন্য আপনার কোন দলিলপত্র দরকার হবেনা, তবে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে উক্ত দলিলপত্রটি দেখতে পারেন। 

    মেয়াদী ঋণের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

    • জাতীয় পরিচয়পত্র ফটোকপি। 
    • আবেদনকারীর দুই কপি নতুন তুলা পাসপোর্ট সাইজের ছবি। 
    • চেয়ারম্যান সার্টিফিকেট অথবা নাগরিক সচদপত্র। 
    • জমির খতিয়ানের কপি। 
    • খাজনার দাখিলা সহ জমির মূল দলিল দিতে হবে। 
    • নিলামের মাধ্যমে সম্পত্তি অর্জন করে থাকলে খাজনার দাখিলা সহ দখল প্রদানের সার্টিফিকেট প্রয়োজন হবে। 
    • আপনি যদি উক্ত জমিটি উত্তরাধিকারী সুত্রে পেয়ে থাকেন তাহলে মূল খতিয়ানের কপি গুলো প্রয়োজন হবে। 
    • ক্রয়কৃত সম্পত্তি হলে মূল দলিল, খারিজ খতিয়ান, ভায়া দলিল, হালসনের খাজনার দাখিলা ও মৌজা ম্যাপের ফটোকপি প্রয়োজন হবে। 
    • জামানতি সম্পত্তি অপ্রাপ্ত বয়স্ক হলে উক্ত সম্পত্তি ব্যাংক বরাবর বন্ধক দেওয়ার জন্য আপনার জেলা জজের অনুমতিপত্র প্রয়োজন হবে। 
    • একজন নমিনি এবং সাথে ছবি এবং ভোটার আইডি কার্ড দরকার হবে। 

    কৃষি ব্যাংক লোন পরিশোদের নিয়ম ও সময়কাল

    স্বল্প মেয়াদী ঋণ ও শস্য ঋণঃ ১৮ মাসের মধ্যে পরিশোদ করতে হয়, এবং এটার কিস্তি মাসিক বিত্তিতে জমা দিতে হয়। 

    মধ্যম মেয়াদী ঋণঃ মধ্যম মেয়াদী ঋণ ১৮ মাস থেকে ৫ বছরের মধ্যে পরিশোদ করতে হয়, এবং এটার কিস্তিও মাসিক বিত্তিতে জমা দিতে হয়। 

    দীর্ঘ মেয়াদী ঋণঃ দীর্ঘ মেয়াদী ঋণ পরিশোদ করার সর্বনিম্ন সময় ৫ বছর, তবে এটি কত বছরের মধ্যে পুরোপুরি পরিশোদ করতে হবে তা আপনার লোনের খ্যাঁত এবং আয় বায়ের উপর নিরবর করে নির্ধারণ করা হবে। 

    কৃষি ব্যাংক লোন ইন্টারেস্ট রেট

    কৃষি ব্যাংক লোন নেওয়ার সহজ উপায় | Krishi Bank Loan | BKB BD

    কৃষি ব্যাংক লোন ইন্টারেস্ট রেট এর সঠিক কোন তথ্য তাদের ওয়েবসাইট বা অন্য কোথাও পাওয়া জায়নি। তবে সাধারণত কৃষি ব্যাংক লোন ইন্টারেস্ট রেট ৯ থেকে ১৪ শতাংশের মধ্যে হয়ে থাকে। 

    ব্যাংক লোন ইন্টারেস্ট রেট অনেক কিছুর উপর নিরবর করে নির্ধারণ করা হয়, যেমনঃ লোনের পরিমান, লোনের সময়কাল, লোনের খ্যাঁত এবং অন্যান্য। 

    আপনার লোন ইন্টারেস্ট রেট কত শতাংশ হবে তা জানার জন্য কৃষি ব্যাংকের যেকোন শাঁখায় যান, এবং সেখানে আপনার লোন নিয়ে বিস্তারিত বলার পর ব্যাংক থেকেই আপনাকে সঠিক লোন ইন্টারেস্ট রেট জানানো হবে। 

    কৃষি ব্যাংক লোন নেওয়ার নিয়ম

    কৃষি ব্যাংক লোন নেওয়ার নিয়ম – কৃষি ব্যাংক থেকে আপনার প্রয়োজনীয় খ্যাঁতে লোন নিতে সে অনুযায়ী ফর্ম, আপনার নিকটস্থ কৃষি ব্যাংক শাখা থেকে সংগ্রহ করুন। 

    তারপর সেটা ভালো ভাবে ফিলাপ করুন, এবং তার সাথে প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র স্টেপ মেরে জুরে দিন। আপনি ফর্ম ফিলাপ করতে না পারলে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সাহায্য নিতে পারেন। 

    ফর্ম ফিলাপ এবং সকল কাগজপত্র স্টেপ মেরে জুরে দেওয়ার পর ব্যাংকে জমা দিন, তারপর ব্যাংক আপনার সকল ডকুমেন্ট যাচাই করে আপনাকে অবগত করবে যে আপনি উক্ত লোনের জন্য আপনি যোগ্য কি না। 

    যদি আপনি উক্ত লোনের জন্য যোগ্য হোন তাহলে আপনাকে লোন প্রধান করা হবে, অন্যতায় আপনাকে লোনটি প্রধান করা হবেনা।

    উপসংহার

    কৃষি ব্যাংক লোন সম্পর্কে বিস্তারিত সকল তথ্য আমরা এই পোষ্টে শেয়ার করেছি। আশা করছি এই পোষ্ট থেকে আপনার ক্ষাঙ্খিত তথ্য জানতে পেরেছেন। এখানে লিখা সকল তথ্য আমরা সংগ্রহ করেছি কৃষি ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে।

    লোন দেওয়া – নেওয়া – সাহায্য করা এবং সাক্ষী দেওয়া সবগুলোই হারাম। তাই লোন থেকে দূরে থাকুন। দুনিয়ার জীবন থেকে পরকালের জীবন অনেক অনেক অনেক বেশি সুন্দর এবং দীর্ঘ।

    x